দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়া বিএনপি নেতার পোস্টার শেয়ার
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটালো প্যানেল চেয়ারম্যান
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়া এক বিএনপি নেতার পোস্টার ফেসবুকে শেয়ার করায় বাগমারার নরদাশ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এবাদুল হককে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছেন। ঘটনাটি শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের মাদিলা মোড়ে ঘটেছে। আহত এবাদুল হক নরদাশ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ফুলপুর গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৪, (বাগমারা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়ার পক্ষে কাজ না করে নরদাশ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন জামায়াতের প্রার্থী ডাক্তার আব্দুল বারীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে নরদাশ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক এবাদুল হক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়া ওই বিএনপি নেতার ছবিসম্বলিত একটি পোস্টার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন। ওই পোস্টারে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। ওই পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে ‘২ নং নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আগামীতে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চাই সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার মোশাররফ হোসেনকে।’ নিজ দলের প্রার্থীর বিরোধিতা করা বিএনপি’র ওই নেতার পোস্টারে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ব্যবহার করায় বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে নরদাশ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবাদুল হক তার ফেসবুক আইডি থেকে ওই পোস্টার শেয়ার করেন। এরপর নরদাশ ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তাকে ওই পোস্টটি ফেসবুক থেকে তুলে নিতে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ও প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুলের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয় এবং এবাদুলকে লাঞ্ছিত করা হয়।
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, নরদাশ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন গত জাতীয় নির্বাচনে প্রকাশ্যে ধানের শীষের বিরোধিতা করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন। তার যথেষ্ট প্রমাণও আমাদের কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে দলের হাই কমান্ডের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। আর মারামারির ঘটনাটি অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এদিকে এবাদুল হক দাবি করেন, অন্য একজন ওই পোস্টার প্রথমে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তিনি তা শেয়ার করায় তাকে রোড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



