রাজশাহী মহানগরীর প্রাচীন নাম মহাকালগড়ের উৎপত্তি
প্রাচীন বরেন্দ্রভূমির তুলনায় রাজশাহী মহানগরীর মাটির বয়স খুব অল্প। এ অঞ্চলের পরিবেশ ধারণা দেয়, নদী পরিবেস্টিত জলামগ্ন স্থানে ক্রমশ পলির ভরাট পড়ে চরের সৃষ্টি। তারপর জলের মাছ ও উর্বর ভূমিতে কৃষিকর্মের উদ্দেশ্যে মানুষের আগমন ও জনপদের উৎপত্তি। এ পর্যন্ত অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, রাজশাহী মহানগরীর প্রাচীন নাম মহাকালগড়। মহাকাল ও গড় দুটি শব্দের সন্ধিতে মহাকালগড়। কল্পিত দেও এর বিশাল মূর্তির নাম ছিল মহাকাল। আর গড় হচ্ছে দুর্গ বা কেল্লা। মহাকাল দেও এর দুর্গই ছিল মহাকালগড়। গঙ্গার উত্তর তীরে গড়ে ওঠা জনপদটির আয়তনও ছিল ছোট। মহাকালগড় অনুসারে জনপদটিও মহাকালগড় নামে পরিচিত ছিল। মহাকালগড় ছিল হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর দরগার স্থান। এখানে ছিল ৩০/৪০ বিঘা আয়তন বিশিষ্ট দেওআলয়। বিশাল আকৃতির মন্দিরও ছিল। যার নাম ছিল মহাকাল দেও। দেও এর নামানুসারেই বর্তমান রাজশাহী কলেজের খেলার মাঠটি ছিল মহাকালদিঘি। দেওআলয়ের সেবায় ছিল অংশুদেও চান্দভণ্ডি বর্ম্মা ভোজ ও অংশুদেও খেজ্জুর চান্দ খড়গ বর্ম্মা গুজ্জভোজ নামের দুই ভাই। এ দুই ভাই ছিলেন মূলত মহাকালগড়ের রাজা। তারা প্রতি বছর দেও এর উদ্দেশ্যে মানুষ বলি দিত। হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) বাঘায় আসেন এবং সেখান থেকে মহাকালগড়ে আগমন করে দেওরাজদ্বয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। দেওরাজদ্বয়ের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বলি প্রথার অবসান ঘটে। মঠ-মন্দিরও ভেঙে ফেলা হয়। তবে পাথরের তৈরি বলির বেদি এখনও বিদ্যমান। অনুমান করা হয় ১৩২৬ খ্রিষ্টাব্দে হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর মহাকালগড় বিজয়ের পর মহাকালগড় নামটিতে পরিবর্তন আসে। পরিবর্তীত নামটি ‘বোয়ালিয়া’।
ছবি: ১৯৬৬ সালের পত্রিকা থেকে হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) দরগা শরিফ ও ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তোলা।



