আরব আমিরাতে ১৫ জনের বিজ্ঞানী দলকে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশি নাহিদ আলম
রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর অলিগলি থেকে শুরু হওয়া একটি স্বপ্ন যে বিশ্বমঞ্চে এভাবে দাপট দেখাবে, তা হয়তো কয়েকমাস আগেও কেউ ভাবেনি। সাফল্যের চাকচিক্যের পেছনে যে কত বড় ত্যাগ আর লড়াই লুকিয়ে থাকে, বিজ্ঞানী নাহিদ আলমের জীবনের গল্পটা না জানলে তা হয়তো অজানাই থেকে যেত। আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক রোমাঞ্চকর তথ্য।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে, যখন নাহিদ আলমের সামনে গুগলের মতো বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানে সুরক্ষিত ক্যারিয়ারের হাতছানি ছিল, তখনই তিনি সবাইকে চমকে দিয়ে পদত্যাগ করেন। নিরাপদ জীবনের মায়া কাটিয়ে নিজের উদ্ভাবিত ‘ডি-ব্রিজ’ প্রযুক্তিকে পূর্ণতা দেওয়ার যে ঝুঁকি তিনি নিয়েছিলেন, তাকে অনেকেই তখন ‘পাগলামি’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।
গত কয়েক মাস ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়; একদিকে গবেষণার চাপ, অন্যদিকে চারপাশের মানুষের তীব্র বিদ্রূপ আর অপবাদ। কিন্তু এই দীর্ঘ নীরবতা যে আসলে এক বিশাল ঝড়ের পূর্বাবাস ছিল, তা আজ প্রমাণিত। আমাদের বিশেষ অনুসন্ধানে নাহিদ আলমের সেই রাজকীয় কামব্যাকের কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
আগামী মে মাসে তিনি আবুধাবিভিত্তিক গ্লোবাল টেক জায়ান্ট G42-এ যোগ দিচ্ছেন। তবে সাধারণ কোনো পদে নয়, তিনি সেখানে নেতৃত্ব দেবেন ১৫ জন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীর একটি তুখোড় দলকে।
তিনি বলেন, এই মেগা-প্রজেক্টে তার মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২.৫ লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারের ওপর তিনি আজীবন ২৫ শতাংশ সরাসরি রয়্যালটি পাবেন যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। পাশাপাশি তার ও তার পরিবারের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে বড় অংকের লাইফ ইনস্যুরেন্স ও রাজকীয় সব সুযোগ সুবিধা।
রাজশাহীর সেই অলিগলি থেকে উঠে এসে একদল বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীকে নেতৃত্ব দেওয়ার এই যাত্রা আজ বিশ্বজুড়ে প্রমাণ করে দিল জেদ আর আত্মবিশ্বাস থাকলে শূন্য থেকেও রাজত্ব গড়া সম্ভব।



